আবনা ডেস্ক: ম্যারি অ্যানি ম্যাকলিওডতার পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। তার নাম ম্যারি অ্যানি ম্যাকলিওড। জন্ম ১৯১২ সালে স্কটল্যান্ডের লিউস দ্বীপের স্টর্নওয়ে শহর থেকে তিন মাইল দূরের টং গ্রামে। আর এই মায়ের গর্ভেই জন্মেছিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় আসার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার স্ত্রী-কন্যা, ব্যবসা ইত্যাদি বিষয় যত আলোচনায় এসেছে, ততটা আসেনি তার মায়ের পরিচয়।
স্কটল্যান্ডের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ১৮ বছর বয়সে একজন গৃহকর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন মেরি অ্যানি। এরপর থেকে পাল্টে যেতে থাকে তার জীবন। স্কটল্যান্ডের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ওই সময় অভিবাসী হিসেবে আমেরিকা এবং কানাডায় চলে এসেছিল দেশটির লাখো বাসিন্দা। তাদেরই একজন অ্যানি।
১৯৩০ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর ছয় বছর পর সফল আবাসন ব্যবসায়ী ফ্রেডেরিক ট্রাম্পকে বিয়ে করেন তিনি। ওই সময়ে নিউইয়র্কের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্রেডেরিক ছিলেন অন্যতম। অভিবাসী হিসেবে জার্মানি থেকে আমেরিকায় গিয়েছিলেন ফ্রেডেরিকের বাবা। ম্যারি অ্যানি ম্যাকলিওডের বংশক্রম নিয়ে গবেষণা করেছেন বংশক্রম বিশেষজ্ঞ বিল লসন। তিনি জানান, অ্যানির বাবা প্রথম জীবনে একটি পোস্ট অফিস পরিচালনা করতেন। পরে ছোট একটি দোকানের মালিক হয়েছিলেন তিনি। শহরের অন্য পরিবারগুলোর চেয়ে আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালোই ছিল তাদের পরিবারের।
তবে বিপত্তি দেখা দেয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। যুদ্ধকালীন এবং তারপর মারা যায় স্কটল্যান্ডের লিউস দ্বীপের হাজারখানেক মানুষ। তখন থেকে দ্বীপটির আর্থিক অবস্থায় ধস নামে। বিদেশে চলে যেতে শুরু করে সেখানকার যুবক সম্প্রদায়। ১৯১৯ সালে আরও এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাগরে ডুবে মারা যান ২০০ সরকারি কর্মচারী।
লসন বলেন, 'ম্যারি অ্যানির পরিবারটি ছিল বড়। তারা ছিলেন নয় ভাইবোন।' এতবড় পরিবার পরিচালনার সামর্থ্য ছিল না অ্যানির মা-বাবার। তাই শেষ পর্যন্ত আমেরিকায় পাড়ি জমাতে হয়েছিল তাকে। তার মতে, 'আজকের দিনে আপনি হয়তো মনে করতে পারেন, স্কটল্যান্ডের মূল ভূখ-ে চলে গেলেই তো হতো। কিন্তু ওই সময় বেশিরভাগ লোকই পাড়ি দিয়েছিল কানাডায়। তখন আমেরিকায় সহজেই স্বচ্ছন্দ্য জীবনযাপন করা যেত। অনেকেরই সেখানে আত্মীয়স্বজন ছিল।'
ট্রাম্পের মায়ের সঙ্গে তখন স্কটল্যান্ড ছেড়েছিলেন তার আরেক বোন ক্যাথেরিন। তবে দুইজনের স্বভাবে কিছুটা পার্থক্য ছিল বলেও জানান এই বংশক্রম বিশেষজ্ঞ। ক্যাথেরিন প্রথমে গিয়েছিলেন কানাডায়, সেখান থেকে নিউইয়র্কে। ১৯৩০ সালেই লিউসে ফিরে যান তিনি। তবে অ্যানি ভাগ্যের সন্ধানে থেকে যান আমেরিকায়।
এরপর নিউইয়র্কের এক ধনাঢ্য পরিবারে গৃহকর্মীর কাজ নেন তিনি। তবে 'ওয়াল স্ট্রিট ক্রাশ' ঘটনার পর আমেরিকার অর্থনীতিতে বিপর্যয় দেখা দিলে চাকরি হারাতে হয় তরুণী অ্যানিকে। ১৯৩৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য স্কটল্যান্ডে যান তিনি। এই সময়ের মধ্যে অবশ্য তার সঙ্গে পরিচয় হয় ফ্রেডেরিখ ট্রাম্পের। পরে নিউইয়র্কে ফিরে এসে অভিজাত কুইন্স এলাকায় তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন অ্যানি এবং যুক্ত হন বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজে। ১৯৪২ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব পান অ্যানি। ২০০০ সালে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
বর্তমানে তিনজন খালাত ও মামাত ভাইবোন আছে ট্রাম্পের। এদের মধ্যে দুইজনই বাস করেন তাদের পিতৃভূমিতে। তবে তাদের কেউই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। স্কটল্যান্ডের স্থানীয় এক কাউন্সিলর এবং ট্রাম্পের খালাতো-মামাতো ভাইদের বন্ধু জন এ ম্যাকলভার বলেন, 'আমি তাদের পরিবারের সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত। তারা খুবই ভালো ও ভদ্র মানুষ। আমি নিশ্চিত, তারা নিজেদের প্রচারণা চান না এবং এটাও নিশ্চিত, এ ব্যাপারে তারা কথা বলতে চাইবেন না।'
২০০৮ সালে মাতৃসম্পর্কের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে স্কটল্যান্ড গিয়েছিলেন অ্যানির ধনকুবের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তিন-চার বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে লিউসে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ওই সময়ের ঘটনা খুব সামান্যই মনে আছে। ওই সফরে মায়ের পিতৃভূমিতে মাত্র ৯৭ সেকেন্ড সময় কাটান ট্রাম্প।
তার ভাষায়, 'আমি ছিলাম খুবই ব্যস্ত। তখন সারা পৃথিবীতে আমার ব্যবসা বিস্তৃত করছিলাম। সময় দেয়া ছিল খুব খুব কঠিন। ওই সময় আমার বিমান ছিল। আমি আনন্দিত যে সেখানে যেতে পেরেছিলাম।'# বিবিসি
২৬ জানুয়ারি ২০১৭ - ০৪:৩৫
News ID: 807326
ম্যারি অ্যানি ম্যাকলিওডতার পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। তার নাম ম্যারি অ্যানি ম্যাকলিওড।